আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর উত্তর ধুমাইটারী নব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গৃহ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।জানা যায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলীসহ (এলজিইডি) বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীগণ তাঁদের অভিযোগে উল্লেখ করেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মেসার্স আজিজা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয় গৃহ নির্মাণের কাজ পায়। নীট বেজ (পিডিইপি-৪) প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের গৃহ নির্মাণের জন্য ২৭ লাখ ২০ হাজার ৪’শ টাকা বরাদ্দ দেয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অন্য একজন ঠিকাদারের নিকট এ কাজ হস্তান্তর করেন। হস্তান্তকারী ঠিকাদার উজ্জ্বল প্রামানিক অধিক লাভের আশায় সংশ্লিষ্ট স্টীমেট অনুযায়ী কাজ না করে সিংহ ভাগ টাকা আতœসাতের পায়তারা চারাচ্ছেন। ব্যপক অনিয়মের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ কাজ চলতে থাকাবস্থায় দেয়াল ধ্বসে পড়ে। এনিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কয়েকদফা বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হন হস্তান্তকারী ঠিকাদার উজ্জ্বল প্রামানিক। এমনকি তিনি অভিযোগকারীগণকে নানান ভয়-ভীতি ও হুমকী-ধামকী প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, তিস্তা নদীর ক‚লবর্তী চরে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর বন্যায় স্থানীয় ৫’শ থেকে ৬’শ পরিবারের লোকজন গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে আশ্রয় নেন। এছাড়া, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বিদ্যালয়ে গমনাগমন ও অবস্থান করে থাকে। ফলে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা এ গৃহ নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে প্রাণ হানির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগকারীগণ অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল মনছুর জানান, অভিযোগ পেয়েছি, কাজের সুুষ্ঠুতা পর্যবেকক্ষণ চলছে।
সুন্দরগঞ্জে বাসতবাড়িতে বেপরোয়া হামলা: ৩ নারীসহ আহত ৫
আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের শান্তিরাম গ্রামের নুরুল ইসলামের বসতবাড়িতে বেপরোয়া হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট, মারপিট করেছে প্রতিপক্ষ। এতে ঐ পরিবারের ৩ নারীসহ আহত হয়েছেন ৫ জন।
জানা যায়, উক্ত গ্রামের নুরুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ মুনছুর আলীর পুত্র ছকুর উদ্দিন ও নছুর উদ্দিনের পুত্র আজিজল হক দলবল নিয়ে উক্ত অসহায় পরিবারে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে ঐ পরিবারের মনোয়ারা বেগম (৪৫) তার মেয়ে ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী মুক্তা আক্তার, মুন্নি বেগম (২৩), ছেলে বকুল মিয়া (১৬) ও পুত্রবধু নাছিমা বেগম (২২) সহ একই পরিবারের ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মনোয়ারা বেগম আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বকুল মিয়া ও তার মা আহত মনোয়ারা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারী) দিনগত রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘরের ব্যাপক ভাংচর, লুটপাট করে। তাদের বেপরোয়া মারাপিটে পরিবারের সবাই আহত হই। মনোয়ারা বেগম বলেন, বড় মেয়ে মুন্নিকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে জামাইয়ের সঙ্গে দ্ব›দ্ব চলে আসছে। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের টাকা যৌতুক দাবি করে জামাই মেয়ে মুনন্নি বেগমকে আমার রেখে যায়। তখন থেকে মুন্নি বেগম এখানেই আছে। জামাইয়ের নাম নুর আজিজ। সে পার্শ্ববর্তী কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের ইউনুস আলীর পুত্র। প্রতিপক্ষের লোকজন তার জামাইয়ে পক্ষ নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। মেয়ে মুন্নি বেগমের পারিবারিক ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে জামাই নুর আজিজ ও প্রতিবেশী ছকুর উদ্দিন গং আমার ও আমার পরিবারের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে ঘটনার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালায়। বকুল মিয়া জানান, তিনি নিজে স্থানীয় ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি (প্রথম বর্ষের) ছাত্র। সে ঘটনার সময় ঘরে লেখা-পড়া করছিল। হঠাৎ প্রতিপক্ষের হামলায় শিকার হয়ে এখন অসুস্থ্য। তার বোন মুন্নি বেগমের ঘটনার পূর্বে স্থানীয়ভাবে ২ বার সালিশ-বৈঠকে মিমাংসার নামে আদালতে এফিডেভিট করে মামলা উত্তোলণের চেষ্টা চালায় দুলাভাই নুর আজিজ ও তার লোকজন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনার কোন সুরহা না হওয়ায় মামলাগুলো উত্তোলণ করা সম্ভব হয়নি। বসত বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৪ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। এরপর আসামীদের নানান হুমকী-ধামকী অব্যাহত থাকায় এখন বাড়িছাড়া হয়েছি। পুলিশ অভিযোগ তদন্ত করতে যাবার পর থেকে পরিবারের কেউই নিজ বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মানিক মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন অন্য কোন ব্যক্তিকে দিয়ে রিসিভ করান তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এরপর ৪ নম্বর অভিযুক্ত একরামুল হক হামলার ঘটনা স্বীকার করে জানান, সে সময় তিনি বাজারে ছিলেন। রাতে বাজার থেকে বাড়ি গিয়ে তিনি ঘটনা বিষয়ে শুনেছেন। প্রতিপক্ষের অভিযোগ তদন্ত করতে যাওয়া থানার এএসআই আব্দুর রহমানের সঙ্গে কয়েকদফা কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোণে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৮ জানুয়ারি ২০২০/ইকবাল